July 01, 2020

তোমাকে...

‘তোমাকে দেখেছি স্বপ্নের মুহূর্তে
তোমাকে দেখেছি প্রেমে-ভালোবাসায়
 
তোমাকে কখনো দেখেছি কি...’
 
     এক বিশাল ক্যানভাস জুড়ে কিছু কাগজ, রঙ, চুমকি, সুতো, পাথরকুচি, যা মনে আসে সব- ও একটু মন ও মেধা মেলালেই তৈরি হয় কোলাজ । নবীন কবি কোলাজ রায় তার সেই নামকেই মিশিয়ে তৈরি করেছেন এই কবিতা কোলাজ ‘তোমাকে...’
 
     কবির প্রথম বই, এক ফর্মার। মোট চোদ্দটি কবিতায় কবি সজিয়েছেন এক মায়াময় জগৎ। নবীন মনে অকাঙ্খিত প্রিয়জনের ছবি আঁকে শব্দ রঙের ছোঁয়ায়।
 
‘অকারণে শুধু হেঁটে যাই
মুখোমুখি পাই যদি পথে’
 
‘ধন্যবাদটুকুও দেওয়া হয়নি
কত কথার পরও দিইনি
শুধু কবিতায় লিখেছি। ’
 
     তবে প্রেম এমনই এক অনুভূতি যে সাথে ছায়ার মতো নিয়ে আসে বিরহকে। তাই কবি লিখছেন-
 
‘মিলনের শেষদিনে
পথ চলে যায় পথের উদ্দেশে
আমি শুধু হেঁটে যাই
বহু দূর চলে যাই...’
 
‘তুমি স্বপ্ন, আবার শব্দ হয়ে স্বপ্ন ভাঙো
স্বপ্নে আসো , তবু  থাকো মুখ লুকিয়ে।’
 
     কবি শুধু প্রেমকেই মেলে ধরেনি এই কাব্যভুবনে। এসেছে কিছু চাওয়া-পাওয়া, কিছু সংসারের সুখ ও অসুখ।
 
‘এখন পর্যন্ত ব্যর্থ আমি
তারপরও
সমর্পণ করিনি মৃত্যুর কাছে’
 
‘চিতাভস্মে পড়ে আছে পোড়া অলংকার
অন্তিম গন্তব্য শুধু
অলংকারের শেষ ঝঙ্কার’
 
     এই আমাদের ক্ষুদ্র জগৎ ও তার পাওয়া-না পাওয়ার হিসেবের মাঝেও কবি কিন্তু খুঁজে চলেছে প্রেম। যে প্রেমের কাছে সকল হতাশা, ইগো , দুঃখ সব দূর করে নিজেকে মেলে ধরা যায়।
 
‘বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি
স্তব্ধ শব্দ, স্তব্ধ কথা, স্তব্ধ লেখা
তোমার সামনে নতজানু
তোমাকে নিয়ে যত কবিতা।’
 
    

কবি শুনিয়ে গেছেন সমস্ত বিপদসংকুল রাস্তা পার করে অতিক্রম করা ভালোবাসার গন্তব্য- জীবনের এভারেস্ট পর্বতমালা, যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার ভালোবাসার ঈপ্সিত মানুষ।
 
‘মুষল ধারায় বৃষ্টি আসুক
ঝড় হোক
ফিরবো না...’
 
‘রং চলে যায় আলোর সাথে
মনের রং জাগে সন্ধ্যার গায়ে
যেখানে কেবল আলো হয়ে
প্রতীয়মান শুধু তুমি। ’
 
     ‘তোমাকে...’ কাব্যগ্রন্থ মুলত ভালোবাসার কথা বলে, তার ধরা পড়া ও হারিয়ে যাওয়া তার রূপ-রং-বর্ণ, তার জীবন যাপন। বইটির কবিতা গোছানোয় একটু অগোছালো ভাব রয়েছে, তবে প্রথম প্রেম ও প্রথম বই – দুটোই মনের কাছের,ও মন চিরটাকাল এলোমেলো থাকতেই ভালোবাসে। কোলাজ রায়ের কলম থেকে আগামী দিনে আরো অনেক কবিতা পড়ার অপেক্ষায়। এখন সময় বইয়ের পাতা মেলার, আর মনে করার সেই মানুষটিকে, যাকে বলতে চেয়েছি কোনো এক বসন্তে- ভালবাসি ‘তোমাকে...’


 
বই                   : তোমাকে...
লেখক             : কোলাজ রায়
প্রকাশকাল      : ২০১৮   
প্রকাশক          : বাংলা সাহিত্য সমাজ, গুয়াহাটি   
প্রচ্ছদ              : নয়নজ্যোতি শর্মা


June 27, 2020

পোয়েটিক জানলায় কবিতার-মেঘ

‘এখন অন্ধকার চারিদিক

অথচ কিছু আগেও কলরব ছিল এই পথে

সকালের স্নিগ্ধ আলো পড়েছিল

ধূলি আলপনার উপর...’


এই নিগূঢ় অন্ধকার মনের প্যালেটে কথার ভীড় আঁকে, সেই কথারাই তো সাজে কবিতার মেঘ। মেঘেরা এসে আসর জমায় কবির জানলার কাঁচ ঘেঁষে। জন্ম নেয় ‘পোয়েটিক জানলায় কবিতার-মেঘ’। কবি নীলদীপ চক্রবর্তী তাঁর এই দু’মলাটের কবিতার বই জুড়ে পাঠকদের শুনিয়েছেন সেই সব মেঘেদের ফিসফাস কথা।

এই বইয়ের কবিতারা মনের কথা বলে। যে কথাদের সাজানো অলংকার চাই না সৌন্দর্যের খাতিরে। এ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তারাও হয়ে উঠেছে ঝকঝকে স্মার্ট।


‘প্রতি সন্ধ্যায় অর্ধেক চাঁদ নামে

নির্মীয়মান ফ্ল্যাট বাড়ির জলের পাইপ ধরে,

এর ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকবে তুমি...’

 

‘এখনো তোর অট্টালিকার রঙিন ডিস্টেম্পার

দেওয়ালের বদলে আকাশ, কালো জানলায়।’

 

     মানব মনের বিচরণ বড় অদ্ভুত। কি নেই সেখানে ! যৌবন – কৈশোর, প্রেম- বিরহ, জীবন- মৃত্যু, সব রঙের ককটেল। সেই ককটেলটি সুদৃঢ় কাঁচের গ্লাসে পরিবেশন করেছেন কবি।

 

‘প্রেম, তুমি কি রেলগাড়ি হতে পার,

ছোট্ট ছেলের কল্পনারই লোকে?’

 

‘হে যক্ষ, হে মেঘ, হে প্রেম

যত মৃত্যু সব

শেষবার জীবন হয়ে যাক।’

 

জীবন মানে শুধুই স্বপ্নসুখ নয়, জীবন মানে ঘোরতর বাস্তব ও তার চাওয়া পাওয়া। তাই কবির কলমে উঠে এসেছে কিছু খুঁজে বেড়ানো প্রশ্ন, কিছু না পাওয়া ইচ্ছেকুচি। কবিমন বার বার আঘাত হানে পাঠকের চেতনায়। বলে ওঠেন-

 

‘কোন অগ্নি, কোন বন্যা, কে ভাষায়

কে পোড়ায় – ভাষা মায়ের মৃত শরীর?’

 

‘বোবা কান্না মূল থেকে গভীর ধ্বনিতে

কন্ঠে যে ঈশ্বর আছেন নির্বাক বধির’

 

জীবন যাপনের খবর জানাতে কবি শোনায়-

 

‘আমরা কাটি পুরোনো কাস্তে দিয়ে

হেলে দুলে পড়া কালো কালো যহ ধান

আমরা কাটি দিন, কাটি রাত্রি-নিদ্রাহীন।’

 

     ‘পোয়েটিক জানলায় কবিতার-মেঘ’এর প্রচ্ছদটি যেমন জানলার গ্রীল জুড়ে দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশের জানান দেয়, এই বইটির কবিতাতেও উঠে এসেছে বিভিন্ন আঙ্গিক, বিভিন্ন রঙ, বিভিন্ন অভিব্যক্তি।উঠে এসেছে স্বপ্ন বিহার-

 

‘অষ্টমীর স্নানের মোহনায় ফুটে থাকে

বসন্ত কিশোরীর পদচিহ্ন।’

 

উঠে এসেছে কঠিন বাস্তব-

 

‘কারেংএর বিধৃত উপত্যকায় একা দাঁড়িয়েছে আহোম যুবক

ওর হেংদাং নিথর শুয়েছে খাপে...’

 

     পাঠক শুধু তুলে নেবে হাতে এবার, দু’চোখ ভরে দেখবে রামধনু- এক মেঘাচ্ছন্ন আকাশের বুকে।

 

বই       : পোয়েটিক জানলায় কবিতার-মেঘ 

লেখক      : নীলদীপ চক্রবর্তী

প্রকাশকাল : ২০১৯  

প্রকাশক    : নান্দীমুখ প্রকাশনী  

প্রচ্ছদ     : পুষ্পল দেব


June 25, 2020

স্বপ্ন শহর

প্রকাশ পায় গুয়াহাটি, অসমের পত্রিকা মে’খানা – শুধু কবিতার, পঞ্চম সংখ্যায়, মে ২০১৯




More to see...