January 22, 2023

প্রেমে-অপ্রেমে (Season 2)

@কমলিকা 
 ১)

আমাদের ড্রিমক্যাচার ভালোবাসারা

নতুন টোটেম খুঁজে শহুরে বারান্দায়,

রেশমি সুতার গিঁট গুণে বানায়

প্রেম আটকের এক আশ্চর্য ওয়েব।

 

সাদা কালো পাখা ও রঙিন বিডস

হাওয়ার দোলায় উড়ে যেতে চায়

উইন্ডোফ্রেমে দেখা সবুজ বাগানে।

 

স্বপ্নের মানে খুঁজতে নেই গুগলে, শুধু

দেখে যেতে হয়, জেগে ওঠার আগে।

 

২)

আমাদের এক্স ওয়াই ভালোবাসারা

অংক ভুলের ভয়ে লাস্ট বেঞ্চে বসে,

গাইডবুক এর উত্তর আগেই দেখে

সাজায় সাপ-সিঁড়ির সকল সংকেত।

 

অ্যালজেবরা খাতায় যাবতীয় সূত্রেরা

শহরের ইলেকট্রিক পোলে চায় ছুঁতে,

আরেক অর্ধেক অংকের পাখি মন।

 

লাভ ব্যালাডের ছেঁড়া উৎসর্গ পাতা শুধু

উত্তর না মেলার খুশিতে লেখে নতুন গান।


১৪.০২.২০২২ -এ দৈনিক বজ্রকন্ঠ' ওয়েবজিনে প্রকাশিত (আগরতলা, ত্রিপুরা)। 


October 30, 2022

দীপাবলীর রাতে

 


আজ আলোর পুজো
আমার নরম গালে
হলুদ দুধের রূপটান
আয়না ঘেঁষা ফাউন্ডেশনে
আরেক পোঁচ প্রস্তুতি

অথচ...
আজ আলোর পুজো

অথচ...
আজ কালোর পুজো।

August 28, 2022

মাইলস্টোন


সময় হয়েছে, রাস্তায় রাখো পা

@কমলিকা 

ঘর থেকে বাইরে আসুক ওই

কাপড়-ভাঁজে ঢাকা প্রতিবিম্ব।

 

মাইলস্টোনে রাখতে হবে না চোখ,

ভাবতে হবে না সেই শেষ অ্যাড্রেস;

এখন তোমায় পথের হদিস দিক

সব ফেলে যাওয়া ভালোবাসা চিহ্ন।

 

চোখে ধরো প্রেম, বুকে মৃদু ভয়;

শহরের বুকের মাঝে শুধু এভাবে

হারানো হৃদয় খুঁজে পাওয়া যায়।


০৮.০৯.২০২১ আগরতলা থেকে প্রকাশিত ওয়েবজিন 'দৈনিক বজ্রকন্ঠে' রয়েছে এই কবিতাটি 

রূপকথারা

এই ভালোবাসার শহুরে গলিপথে 
@কমলিকা 

কিছু চেনা রূপকথা রয়েছে মিশে,

গেয়েছে রাতের ঘুমপাড়ানিয়া গান।

 

মাঝে মাঝে সেই চেনা সুর বাজলে

সত্যি মনে করে চোখে ছোঁয়াই হাত,

অপেক্ষা রাখি ঘুম ভাঙানো মন্ত্রের।

হৃদয় আসলে ফিকশন ভালোবাসে,

এই কঠিন সত্য বুঝে ফেলার পর

আমি সব কিছুই বিশ্বাস করতে চাই,

রূপকথার রাজপুত্র ও মায়াবী জিন।

 

এসো প্রেম, আজ গল্পপাঠের আলোয়

বেডরুমে সাজাই এক আরব্য রজনী।

২৬.০৮.২১ -য়ে
দৈনিক বজ্রকন্ঠওয়েবজিনে প্রকাশিত (আগরতলাত্রিপুরা)

প্রেমে-অপ্রেমে

১)

আমাদের ব্ল্যাক-ফরেস্ট ভালোবাসারা

পাইপিং ব্যাগে ভরে মিষ্টি সম্পর্ক,

নরম লাল চেরি দিতে ভোলে না

@কমলিকা 

কিছু পরিচিত শব্দছকের ফাঁকে।

 

বর্ষেরা আসে, বর্ষেরা যায় চলে,

শুধু এক কেক মাখা ফটো হাতে

ফিরে আসে সেই রেড লেটার ডে।

 

মিষ্টি দুটো ঠোঁটে বসাব তীক্ষ্ণ ছুরি,

প্রেম তুমি এখন হাততালি থামিও না।

 

২)

আমাদের ক্যাপুচিনো ভালোবাসারা

ধোঁয়া ওঠা প্যালেটে বানায় ডুডল,

সামনের সিটে বসা চেনা মুখগুলো

রিস্ট-ওয়াচ হাতে পালটে দেখে মেনু।

 

কফি আর্টে সাজানো নরম পালক

আসলে গ্যালাক্সির প্রতিটি স্বপ্নের

না-বলা খসে পড়া এক রাততারা।

 

মনের কথা হ্যান্ডওভার করব,

আরও দুকাপ কফি বলো প্রেম।

 

৩)

আমাদের মনসুন ভালোবাসারা

ব্যালকনিতে ছাতা রাখে মেলে,

জল ভরে থাকা পিচ রাস্তায়

হেঁটে যায় কিছু চেনা গামবুট।

 

শহরে বৃষ্টি এলে ফিরে আসে

তোমার শরীর ছুঁয়ে লিখে রাখা

এক লাল আমব্ৰেলা স্টেটাস।

 

বর্ষায় ভিজব আজ সারারাত

রুফটপে একবার চলো প্রেম।

 


দৈনিক বজ্রকন্ঠওয়েবজিনে প্রকাশিত (আগরতলাত্রিপুরা)

১)০৮.০৮.২০২১২)২০.০৮.২০২১, ৩) ২২.০৯.২০২১ 

June 18, 2022

বাবার কথা



 দুটো কবিতা দ্বিতীয় কাব্য গ্রন্থ 'উইদ লাভ, কমলিকা' -য় প্রকাশিত। 

April 16, 2022

রূপকথা নয়


গুয়াহাটি, অসম থেকে 'মাজুলি' তৃতীয় বর্ষে প্রকাশিত ,২০২১। 


চন্দ্রাবলী

 

@কমলিকা 
তোমায় দেবো বলে যে প্রেম
তুলে রেখেছি কাঠের দেরাজে,
তার চাবি পেয়েছে খুঁজে
ফাল্গুনী পূর্ণিমার গাঢ় আকাশ।
শহরের ঘড়িতে রাত বাড়লে
জোছনা খোলে মন কপাট-
শুভ্র শরীরে মাখে সোহাগ আবীর,
ছাদে এসে যদি চাঁদ দেখো
জানবে সে সেজেছে আজ
আমার লজ্জার লাল ফুলে,
চোখে যতই ক্লান্তি আসুক নেমে
জেগে থাকো অতন্দ্রপ্রহরী...

আমি চাই না
চাঁদ ঘুমোতে দেখুক তোমায়,
আমি চাই না
চাঁদ তোমার প্রেমে পড়ে যাক।


গুয়াহাটি, অসম থেকে 'মাজুলি' তৃতীয় বর্ষে প্রকাশিত ,২০২১। 

August 22, 2021

ডায়েরীর পাতা থেকে

@কমলিকা 

১)

'বিদায় ভালোবাসা,দেখা হবে অন্য জীবনে'- এই বলে যে ছেলেটি কফিশপ ছেড়ে গেল, তার চলে যাওয়ার কথা আমি আগেই জানি। ডি.এন.এর চৌত্রিশ তম ক্রোমোজোমে গাঁথা আছে চলে যাওয়ার এই মন্ত্র। এভাবেই ছেলেটির বাবা তার মাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন একদিন,ড়ে ছিল কিছু এলোমেলো কবিতা। শুনেছি, তার মা কবিতাগুলো পড়তে পারেনি, সাহস করে,এই জীবনে। মায়ের মৃত্যুর পর কাঁপা হাতে সেই কবিতা তুলে দিয়েছিল আমাকে। সেই থেকে কবিতারা সেই কাপবোর্ডে বানিয়েছে ঘর। আজ মনে হচ্ছে একবার পরে নিলে অনেক কিছুই আটকে ফেলা যেত। অথচ, কবিতারা যে এখন সেখানে আর নেই,সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। তাই আরেক কাপ কাপুচিনো বলেছি।কবিতা হয়ে ওঠার চেষ্টা আজ থেকেই শুরু করতে হবে।

 

২)

কিছু গান তার আঁচলের খুঁটে রাখে বেঁধে মন দরজার চাবিগোছা। এইমাত্র চাবি ঘুরিয়ে এক প্রেমিক গান ঢুকে পড়ল অন্দরে। স্মৃতির শহরে সে এক নতুন ট্রাভেলার,তুমি তার একমাত্র পরিচিত।হন্য হয়ে সে খোঁজে তোমার পেস্টেল রংয়ের বাড়ি।অচেনা গলি পার করে বাড়ির ঠিক সামনের লনে পা রাখতে গানটি টের পায় বাজছে তার লাস্ট মিউজিক নোট।স্তব্ধতার ঠিক আগের মুহূর্তে সে রেখে যায় কিছু বেলফুল সুবাস মাখা এক রিপ্লে বটন প্রতীক্ষা।

 

দৈনিক বজ্রকন্ঠ' ওয়েবজিনে প্রকাশিত (আগরতলা, ত্রিপুরা)

১)০৪.০৭.২০২১, ২)২৩.০৭.২০২১

July 24, 2021

বিসর্জন

@কমলিকা 

 দশমীর ডুবো রোদ গায়ে মেখে

নামহীন এক পুকুরপাড়ে আমি,

জানি একটু পরেই তুমি আসবে

আওয়াজ ও আলো-লাল নীল।

হাত ধরে নেমে আসবে দেবী-

এক, দুই, তিন সিঁড়ি গুনে

তোমার ইশারায় নামতে নামতে

গায়ে মাখা সব আগুনপালক

মিশে যাবে জল বিন্দু হয়ে,

তোমার বিশ্বাস মাখা স্পর্শ ছাড়া

কাঠামোর আর কিছুই জানা হবে না।

 

ঠিক তখনই জল ওঠে নড়ে,

নড়ে ওঠে আমার গচ্ছিত দেবীভাব।

 

আগরতলা, ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত ‘কীর্ণকাল’ পত্রিকায় রয়েছে এই কবিতাটি (৪র্থ বর্ষ, ২০২০)

স্বপ্নতরু

@কমলিকা 

মাঝে মাঝেই আমি গাছ হয়ে যাই

শেকড় গেঁথে যায় নরম ম্যাট্রেসে,

বেডরুমের হালকা নীল আলোয়

স্পষ্ট দেখি ঝরে পড়া বুনো ফুল;

তুমি সে নামবিহীন ফুল তোলো-

যত্নে সাজাও সজল কাঁচের পাত্র,

ঘর ভরে যায় অচেনা মিষ্টি সুবাসে

আমাদের বাসর সাজে প্রতিরাতে।

 

ফুলের গন্ধে আমার মনখারাপ হয়,

তুমি তো তা জানতে,জানতে না?

 

কবিতাটি প্রকাশিত হয় আগরতলা, ত্রিপুরার ‘কীর্ণকাল’ পত্রিকায় ৪র্থ বর্ষ, ২০২০


গল্পবিজ্ঞান

@ কমলিকা 

 

পৃথিবী তোমাকে নিজের দিকে টানছে,

সূর্যর অমোঘ চুম্বক টানে পৃথিবীকে।

এই আকর্ষণ ভুলে তুমি ভাবছো

বাসস্টপে দেখা মেয়েটির কালো চোখ।

 

তোমার হারিয়ে যাওয়া কক্ষপথে

এখন লাল চাদর রয়েছে বিছানো,

শুধু সময়ের হাত ধরো একবার

হারিয়ে যাও নিজের গতিমতো।

 

জানবে,সূত্রেরা গন্তব্যে না পৌঁছলে

বিজ্ঞানের খাতা কখনো শেষ হয় না।

 


কবিতাটি প্রকাশিত হয় প:বঙ্গ জলপাইগুড়ির ‘দুন্দুভি’ সাহিত্য পত্রিকায় (নভেম্বর, ২০২০)


June 05, 2021

রঙ তুলি

 

‘দৈনিক বজ্রকন্ঠ’ ওয়েবজিনে ২৯.০৫.২০২১ তারিখে প্রকাশিত (আগরতলা, ত্রিপুরা)

পুরাতাত্ত্বিক

 



কবিতাটি প্রকাশিত হয় অসমের তিনসুকিয়ায় ‘উজান’ পত্রিকায় (ষোড়শ সংখ্যা, ২০২০)


কথায় কবিতায়

 


‘দৈনিক বজ্রকন্ঠ’ ওয়েবজিনে ০৭.০৪.২০২১ তারিখে প্রকাশিত (আগরতলা, ত্রিপুরা)

May 16, 2021

সহজপাঠ

কমলিকা 


 

যুদ্ধ শেষে সৈন্য শহর ছাড়লে

ছেলে মেয়ে যাবে ফিরে ইস্কুলে,

তুলবে খাতা,শিখবে সহজপাঠ

 ''-এ অস্ত্র, '' -এ আতংক।

 

কিছু দীর্ঘশ্বাস গলে পড়বে শুধু

পোড়া মোমে শেষ আলোরেখা হয়ে।




দৈনিক বজ্রকন্ঠে প্রকাশিত ১৯.০৯ .২০২০ (আগরতলা, ত্রিপুরা)

ত্রিষ্টুপ

@কমলিকা 

 
১) কন্সোল্যাশন প্রাইজ

শুধু এক সান্ধ্য উৎসবের
সাজানো ট্রফি লোভে
যে রক্তগোলাপ হত্যা
নিজহাতে করেছি রচনা
এতবছর পর আজও সে
বই কফিনে উঁকি মেরে
গায় আমার সমূহ ব্যর্থতা।


২)সাদা কালো

এক মেয়ের গল্প বলি
মাতাল আত্মঘাতী স্বামীর
মরদেহ চেয়ে যে বলেছিল
এতদিন (সব) জ্বালা জুড়ালো।
চিতাকাঠের ধোওয়া মেখে
বারোহাতি বৈধব্য সাজে
সরকারি অফিসে লিখিয়েছিলো নাম।

অনেক পরে জেনেছিলাম
সাদা শাড়ি পরিহিতা
একদিনশুধু ভালোবেসে ছেড়েছিল ঘর
সেই থেকে কত প্রেম রঙ
মিশলো এসে শাড়ির খাঁজে
বোকা শাড়িখানার তবু
রঙিন হয়ে ওঠা হলো না।

৩) বৃষ্টি তোমাকে দিলাম

তোমার কথা মনে এলে
সেদিন শহরে বৃষ্টি নামে,
ভালোবাসায় যায় ছুঁয়ে
এক মেঘ থেকে আরেক মেঘের বুক;
কল্পনা-কার্নিশে জমা কথাদের
কাজে আর থাকে না মন
ব্যস্ত হাতে বানায় অরিগ্যামি নৌকা,
দু' একটায় পাল দিতেও ভুলে না।

তোমার কথা মনে এলে
আমি নৌকাদের ভিজতে দেই না,
পাট করে তোষকের নীচে রেখে
শুয়ে শুয়ে মেঘেদের গান শুনি।


'দৈনিক বজ্রকন্ঠ' ওয়েবজিনে প্রকাশিত (আগরতলা, ত্রিপুরা)
১)৩১.০১.২০১৯ , ২)৩০.০৩.২০১৯ , ৩)২৬.০৩.২০২০  



More to see...