October 30, 2022

দীপাবলীর রাতে

 


আজ আলোর পুজো
আমার নরম গালে
হলুদ দুধের রূপটান
আয়না ঘেঁষা ফাউন্ডেশনে
আরেক পোঁচ প্রস্তুতি

অথচ...
আজ আলোর পুজো

অথচ...
আজ কালোর পুজো।

August 28, 2022

মাইলস্টোন


সময় হয়েছে, রাস্তায় রাখো পা

@কমলিকা 

ঘর থেকে বাইরে আসুক ওই

কাপড়-ভাঁজে ঢাকা প্রতিবিম্ব।

 

মাইলস্টোনে রাখতে হবে না চোখ,

ভাবতে হবে না সেই শেষ অ্যাড্রেস;

এখন তোমায় পথের হদিস দিক

সব ফেলে যাওয়া ভালোবাসা চিহ্ন।

 

চোখে ধরো প্রেম, বুকে মৃদু ভয়;

শহরের বুকের মাঝে শুধু এভাবে

হারানো হৃদয় খুঁজে পাওয়া যায়।


০৮.০৯.২০২১ আগরতলা থেকে প্রকাশিত ওয়েবজিন 'দৈনিক বজ্রকন্ঠে' রয়েছে এই কবিতাটি 

June 18, 2022

বাবার কথা



 দুটো কবিতা দ্বিতীয় কাব্য গ্রন্থ 'উইদ লাভ, কমলিকা' -য় প্রকাশিত। 

April 16, 2022

রূপকথা নয়


গুয়াহাটি, অসম থেকে 'মাজুলি' তৃতীয় বর্ষে প্রকাশিত ,২০২১। 


August 22, 2021

ডায়েরীর পাতা থেকে

@কমলিকা 

১)

'বিদায় ভালোবাসা,দেখা হবে অন্য জীবনে'- এই বলে যে ছেলেটি কফিশপ ছেড়ে গেল, তার চলে যাওয়ার কথা আমি আগেই জানি। ডি.এন.এর চৌত্রিশ তম ক্রোমোজোমে গাঁথা আছে চলে যাওয়ার এই মন্ত্র। এভাবেই ছেলেটির বাবা তার মাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন একদিন,ড়ে ছিল কিছু এলোমেলো কবিতা। শুনেছি, তার মা কবিতাগুলো পড়তে পারেনি, সাহস করে,এই জীবনে। মায়ের মৃত্যুর পর কাঁপা হাতে সেই কবিতা তুলে দিয়েছিল আমাকে। সেই থেকে কবিতারা সেই কাপবোর্ডে বানিয়েছে ঘর। আজ মনে হচ্ছে একবার পরে নিলে অনেক কিছুই আটকে ফেলা যেত। অথচ, কবিতারা যে এখন সেখানে আর নেই,সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। তাই আরেক কাপ কাপুচিনো বলেছি।কবিতা হয়ে ওঠার চেষ্টা আজ থেকেই শুরু করতে হবে।

 

২)

কিছু গান তার আঁচলের খুঁটে রাখে বেঁধে মন দরজার চাবিগোছা। এইমাত্র চাবি ঘুরিয়ে এক প্রেমিক গান ঢুকে পড়ল অন্দরে। স্মৃতির শহরে সে এক নতুন ট্রাভেলার,তুমি তার একমাত্র পরিচিত।হন্য হয়ে সে খোঁজে তোমার পেস্টেল রংয়ের বাড়ি।অচেনা গলি পার করে বাড়ির ঠিক সামনের লনে পা রাখতে গানটি টের পায় বাজছে তার লাস্ট মিউজিক নোট।স্তব্ধতার ঠিক আগের মুহূর্তে সে রেখে যায় কিছু বেলফুল সুবাস মাখা এক রিপ্লে বটন প্রতীক্ষা।

 

দৈনিক বজ্রকন্ঠ' ওয়েবজিনে প্রকাশিত (আগরতলা, ত্রিপুরা)

১)০৪.০৭.২০২১, ২)২৩.০৭.২০২১

July 24, 2021

বিসর্জন

@কমলিকা 

 দশমীর ডুবো রোদ গায়ে মেখে

নামহীন এক পুকুরপাড়ে আমি,

জানি একটু পরেই তুমি আসবে

আওয়াজ ও আলো-লাল নীল।

হাত ধরে নেমে আসবে দেবী-

এক, দুই, তিন সিঁড়ি গুনে

তোমার ইশারায় নামতে নামতে

গায়ে মাখা সব আগুনপালক

মিশে যাবে জল বিন্দু হয়ে,

তোমার বিশ্বাস মাখা স্পর্শ ছাড়া

কাঠামোর আর কিছুই জানা হবে না।

 

ঠিক তখনই জল ওঠে নড়ে,

নড়ে ওঠে আমার গচ্ছিত দেবীভাব।

 

আগরতলা, ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত ‘কীর্ণকাল’ পত্রিকায় রয়েছে এই কবিতাটি (৪র্থ বর্ষ, ২০২০)

গল্পবিজ্ঞান

@ কমলিকা 

 

পৃথিবী তোমাকে নিজের দিকে টানছে,

সূর্যর অমোঘ চুম্বক টানে পৃথিবীকে।

এই আকর্ষণ ভুলে তুমি ভাবছো

বাসস্টপে দেখা মেয়েটির কালো চোখ।

 

তোমার হারিয়ে যাওয়া কক্ষপথে

এখন লাল চাদর রয়েছে বিছানো,

শুধু সময়ের হাত ধরো একবার

হারিয়ে যাও নিজের গতিমতো।

 

জানবে,সূত্রেরা গন্তব্যে না পৌঁছলে

বিজ্ঞানের খাতা কখনো শেষ হয় না।

 


কবিতাটি প্রকাশিত হয় প:বঙ্গ জলপাইগুড়ির ‘দুন্দুভি’ সাহিত্য পত্রিকায় (নভেম্বর, ২০২০)


June 05, 2021

পুরাতাত্ত্বিক

 



কবিতাটি প্রকাশিত হয় অসমের তিনসুকিয়ায় ‘উজান’ পত্রিকায় (ষোড়শ সংখ্যা, ২০২০)


কথায় কবিতায়

 


‘দৈনিক বজ্রকন্ঠ’ ওয়েবজিনে ০৭.০৪.২০২১ তারিখে প্রকাশিত (আগরতলা, ত্রিপুরা)

May 16, 2021

সহজপাঠ

কমলিকা 


 

যুদ্ধ শেষে সৈন্য শহর ছাড়লে

ছেলে মেয়ে যাবে ফিরে ইস্কুলে,

তুলবে খাতা,শিখবে সহজপাঠ

 ''-এ অস্ত্র, '' -এ আতংক।

 

কিছু দীর্ঘশ্বাস গলে পড়বে শুধু

পোড়া মোমে শেষ আলোরেখা হয়ে।




দৈনিক বজ্রকন্ঠে প্রকাশিত ১৯.০৯ .২০২০ (আগরতলা, ত্রিপুরা)

সময় অসময়

@কমলিকা 

এখন একা থাকার এক বিবর্ণ সময়

শত্রুর ঘায়ে দরজায় পড়েছে ডাবল লক,

মানুষ একলাই ছিল এই জীবনে চিরকাল,

সবাই জানে,তুমিও জানো সঠিক।

 

একদিন সূর্য উঠলে দেখো চেয়ে

ড্যান্ডেলিওন ফুলে সেজে আছে শহর,

প্রতিটি বন্ধ দরজার ধুলো মাখা ফাঁকে-

আমাদের মনের যা কিছু ভালো

হয়ে উঠবে এক একটি সফেদ রেনু।

 

অপেক্ষায় থেকো সে সময়ের,

গাছে জল দিও দুবেলা,যত্ন মেখে

বসন্ত ঋতুচক্রের শেষে ফিরে আসে,

সবাই জানে,তুমিও জানো সঠিক।


দৈনিক বজ্রকন্ঠে প্রকাশিত ১৭.০৫.২০২০ (আগরতলা, ত্রিপুরা)

বাজার

 



ওয়েবজিন 'কবিতা করিডোর' থেকে ৩০.১১.২০১৯ এ প্রকাশিত (আলিপুরদুয়ার, বাংলা)। 
ওয়েবজিন 'বজ্রকন্ঠ' থেকে ২৬.১০.২০১৯ এ প্রকাশিত  (আগরতলা, ত্রিপুরা)। 

April 07, 2021

গল্পগাছা

@কমলিকা 

লামডিং নিয়ে কখনো আমি লেখিনি

লেখা হয়নি কলোনির রেল কোয়ার্টার

ও সেই ছোট্ট মেয়ের কথা

শহর ছেড়ে আসার সময়

মেয়েটিকে পুতুলের লোভে ডেকেছি

মরচে ধরা ট্রাঙ্কের ভেতর

কয়েদ করার ঠিক আগে

যত্নে হাত বুলিয়ে বলেছি

এখানে নিশ্চিন্তে ঘুমো,

মাঝে মাঝে খেলিস কিন্তু!

কোনোদিন সে জানতেই পারলো না

কানামাছি খেলার ফাঁকে

চারপাশটা অদ্ভুতভাবে গেছে বদলে

মেয়েটি আজ-ও  প্লাস্টিকের খেলো পেয়ালায়

ঘোলা জল ঢেলে চায়ের আসর সাজায়।


আগরতলা, ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত ওয়েবজিন 'দৈনিক বজ্রকন্ঠে' ১৯.০৭.২০১৮ রয়েছে এই কবিতাটি 

September 19, 2020

যুদ্ধ

 প্রতিটা রাতের পর রাত নামলে

@কমলিকা 

আমি মার দিকে চেয়ে থাকি

 বেডরুমের জিরো পাওয়ার বাল্বে

বুঝে নিতে চাই বলিরেখা

হাত ছোঁয়াই আর মাপি

যুদ্ধ এখনো কতটা বাকি

যতদিন কাঁটাতারে সৈন্য বহাল

আমার ঘুমটাও যে সুনিশ্চিত

এটাকেই কি স্বার্থপরতা বলে?


আলিপুরদুয়ার , পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত ওয়েবজিন 'কবিতা করিডোর' ০৬.০৫.২০১৮  

মিথ

প্রতিটি দেবীর থাকে

@কমলিকা

এক প্রেমিক অসুর
শুধু বিয়ের আশায়
যে বানায় মন্দির
প্রেম কারুকাজ গাঁথা
বানায় সুদৃঢ় রাস্তা
দেবীকে পপুলার করার
এক প্রণয় বাসনায়।

রাত নিঃশেষ হয়
এক অসমাপ্ত চারুকলা
ও মোরগের ছলনায়
প্রেমিক জানতেই পারে না
বিবাহ নামক অস্ত্রে
রমণীরাও যথেষ্ট পটু।


দৈনিক বজ্রকন্ঠে প্রকাশিত ৩১.০৫.২০১৮ (আগরতলা, ত্রিপুরা)

বর্ণপরিচয়

@কমলিকা 

তোমার সেই পরিচিত

ডবকার মেয়েটি আর

এক্কা দোক্কা খেলে না

পাঠশালার ধুলো মাখা

খিলঞ্জীয়া খাতায়

খোঁজে বাক্স প্যাটরার নাম

ঘুন কাটা ডেস্কের কাছে

সে ফেলে এসেছে বর্ণপরিচয়

ভাষা জাতির চৌখুপি খেলায়

টিপ করে ছোঁড়ে পাথর

তোমার সেই পরিচিত

ডবকার মেয়েটি আর

ঈশ্বরচন্দ্র জানতে চায় না।


দৈনিক বজ্রকন্ঠে প্রকাশিত ১৯.০২.২০১৮ (আগরতলা, ত্রিপুরা)

শহর, তোমার জন্যে

১) শহরকে, ভালোবেসে

@কমলিকা 


শীত আসছে তার শান্ত পায়ে

শহরের বুকে বাজে সে ধ্বনি

এ সময় পরিযায়ী পাখি ওড়ে

হয়ে ওঠে সেই দূর দ্বীপবাসিনী

এবারেও তার অন্যথা হচ্ছে না

বুঝতে পারছি আমার এবারে

পাখা মেলার হয়েছে সময়

অথচ পাখার নরম পালক

মায়া কুয়াশাভারে আছে ক্লান্ত

স্পষ্ট দেখছি দুটো পায়ে

রোজ বেড়ে চলেছে শেওলা

ঘন সবুজে ঢাকছে বিভবশক্তি

কেন বুঝতে পারিনি এতকাল

শুধু শহরকে ভালোবেসেই

প্রাণ দিয়েছিলো গল্পের সোয়ালো পাখি।


২)কাতিউশার গল্প


এ শহরে শীত এলেই

কুয়াশারা আসে নেমে

রাস্তার কাজল চোখ কোণে

যেন স্বর্গের পবিত্র পরীরা

শহরের বুকে ছোঁয়ায় আঙ্গুল

অদৃশ্য হয়ে যত রৌদ্রক্ষত

 ধূলোচাকার রেখে যাওয়া দাগ

সাদা কালো বেহায়া বেড়ালগুলো

জানলার কার্নিশে করে অভিনয়

ঘুম চোখের ফাঁকে দেখে রাখে


রাত জাগা প্রেমের গল্পগুলো।

৩)বহুরূপী

 চৈত্র এলেই উন্মুখ মন

কান পাতে ঢাকের খোঁজে

 সেই ছোট্ট বেলার পাড়াগাঁয়ে

হরগৌরীর চক্রাকার নাচ

আগে নীলমাখা শিব

পেছনে পীতবর্ণা পাব্বতী

বেকার ছেলের মাসকাবারি

ফাউ হিসেবে ভক্তি প্রণাম

ভগবান হয়ে ওঠা গল্পকথার

এক্সপাইরি গাজন মেলা

রাতে সারপ্রাইজ এলিমেন্ট

আলকাতরা সাজে কালী।

 

 সেই চড়া কমদামি রঙ

চারিদিকে পড়েছে ছড়িয়ে

সাজঘরের ফাঁকা কৌটো

 হাতে ধরে আজ ও থাকে বসে

যুগ অচল বহুরূপীরা।



আগরতলা, ত্রিপুরার 'দৈনিক বজ্রকণ্ঠ' থেকে প্রকাশিত 
১) ০৩.০৩.২০১৮ ,২)০৭.০৫.২০১৮, ৩)১১.০৮.২০১৮ 

July 18, 2020

বর্ণমালার ক্ষত

যে কবিতা লিখবো বলে কলম ধরেছি

@কমলিকা 

জানি লেখা হয়ে গেছে বহুবছর আগে।

সেখানে দাঁড়িয়ে এক মধ্যবয়সী যুবক,

হাতে তাঁর রক্তস্নাত কাঁটাতার গুচ্ছ

(এই অব্দি পড়েই যাঁরা ভাবছেন যীশু

ও সেই বহুল পরিচিত ক্রুসিফিকশন;

জনান্তিকে জানাই,ভুল ভেবেছেন)

যুবকের দিকে আলো ফেলা হোক

ডি এন এ টেস্ট ছাড়াই বলা যায়,

চেনা যায় নিজের পূর্ব জন্মের মুখ।

কাঁটাতার ধরা শান্ত হাত এগিয়ে আসে

সফেদ কাগজে ছোঁয়ায় লাল আঙ্গুল,

আরো অনেক অনেক টিপ ছাপ আঁকা

সেই লাল কাগজই আসলে কবিতা।

প্রথমে অবশ্য সঠিক বোঝা যায় না

সাধারণ ভোটের স্লিপ ভেবে হয় ভুল

নেহরুর পক্ষে বা বিপক্ষে কত ভোট

এই নিয়ে টেবিল সরগরম করা যায়,

ক্ষত চিহ্ন তখন ধীরে ধীরে মেলে চোখ

হয়ে ওঠে একেকটা রাগী বর্ণমালা

ঠিক তখনই এ কবিতা লেখা হয়,

বলে যায়,মাতৃসুধা ঘুরে শরীর শিরায়

নিয়ে এসো কাগজ,নিয়ে এসো কাঁটাতার

নতুন আঙ্গুল চিহ্ন সাজাবো এবার । 



১৪.১০.২০১৮ এ দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকার রবিবাসরীয় বিভাগে প্রকাশিত। (গুয়াহাটি,অসম)


More to see...